এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ধ্বংসের পথে
আপলোড সময় :
১১-০৫-২০২৬ ০১:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১১-০৫-২০২৬ ০১:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ধ্বংসের পথে
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ধ্বংসের পথে
নিজস্ব প্রতিবেদক
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় এনআরবিসি ব্যাংককে দখলদারদের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রে মরিয়া চেয়ারম্যান মো: আলী হোসেন প্রধানিয়া ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: তৌহিদুল আলম খান। প্রকৃত শেয়ারধারীদের বাইরে রেখে অস্থায়ীভাবে স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ চায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত....
পাঁচ আগস্টের গনঅভ্যুত্থান পরবৰ্তী সময়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তৎপর হয়ে পড়ে অভ্যুত্থানের স্পিরিট কিভাবে ভুলুন্ঠিত কৰা যায়। সংস্কারের নামে কেউ কেউ নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন, কেউবা সততার ছদ্মবেশে নিজের স্বার্থে জনগনের বৃহত্তর স্বার্থ জলাঞ্জলী দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেননি । রাষ্ট্রের বাকবদলের এই ইতিহাসে এমনই এক পথহারা পথিক হতে চলেছে দেশের আৰ্থিক খাত। যার জ্বলন্ত উদাহরণ এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি। প্রকৃত বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের বাইবে রেখে শুদ্ধতার নামে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের শেষ বিন্দুতে নিয়ে গিয়ে কম মূল্যে কিভাবে ব্যাংকটিকে দখলদারদের হাতে তুলে দেয়া যায়-সেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের গিনিপিগে পরিনত হয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি।
২০২৫ সালের ১২ ই মার্চ কোন কারণ ছাড়াই চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে আর্থিক সূচকের সবগুলোতেই শীর্ষে থাকা এনআরবিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়। পর্ষদ গঠন করা হয় সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে । যা পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। আইন অনুযায়ী পর্ষদে এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক হতে পারবে। কিন্তু এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি'তে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে পর্ষদ গঠন করা হয়। সে সময় সুযোগ বুঝে কিছু সমস্যাপূর্ন ব্যাংকের সাথে এনআরবিসি ব্যাংককে এককাতারে ফেলে ফায়দা লুটার ষড়যন্ত্র করে একটি কুচক্র মহল । এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, যখন ব্যাংকটি ব্রাঞ্চ-সাব ব্রাঞ্চসহ প্রায় ১২ শর বেশি সেবা কেন্দ্ৰ নিয়ে সারাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এসএমই খাতে প্রথম সারির ব্যাংকগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে মুনাফার দিক দিয়ে প্রথম ২০ টি ব্যাংকের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে -ঠিক তখনই প্রয়োজন পড়ে উদ্যোক্তা ও শেয়ারধারীদের বাইরে রেখে পর্ষদ পুনর্গঠনের।
কৃষি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ: আলী হোসেন প্রধানিয়াকে চেয়ারম্যান করে সাত সদস্যের স্বতন্ত্ৰ পরিচালক দিয়ে গঠন করা হয় পরিচালনা পর্ষদ। যেখানে ঠায় হয় সাবেক গভর্নের বন্ধুমহলের লোকজনের। সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সহপাঠী প্রফেসর ড. সৈয়দ আবূল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে কাজ করা লোকজনকে এনে বসানো হয় এই পর্ষদে । সৈয়দ আবুল কালাম শুরুতে দু-একটি বোর্ড সভায় অংশ নিলেও গত এক বছরে একদিনের জন্যও বোর্ড সভায় না আসলেও তাকে বহাল তবিয়তেই রেখে দেয়া হয়েছে ।
নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেয়ার সময়ে এনআরবিসি ব্যাংকের আমানতের পরিমান ছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকার উপরে এবং শ্রেনীকৃত ঋণের হার ছিল ৫% এর নিচে । ব্যাংকের এই সুস্বাস্থ্য নিয়ে শেয়ারহোলল্ডারসহ কৰ্মকর্তারা গৰ্ববোধ করলেও এ নিয়ে শুরুতেই অস্বস্তিতে ছিল নতুন পরিচালনা পর্ষদ। একে একে ব্যাংকের ভাবমূর্তী ধ্বংসের পায়তারা করতে থাকেন নতুন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া। গনমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলতে শোনা যায়, এই ব্যাংকে অনেক অনিয়ম হয়েছে এবং ঘোষিত তথ্যেরও কোন ঠিক নেই। একই সাথে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কোন প্রমান ছাড়াই বিভিন্ন সময়ে বোর্ডে ডেকে নিয়ে চোর সম্বোধন করে তাদের নৈতিক মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকে । তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই, কিভাবে গ্রাহকের কাছে ভাবমূর্তি নষ্ট করে ব্যাংকটিকে খাদের কিনারে নিয়ে আসা যায়।
অথচ ছয়মাস পরেই পূর্বের ২০ হাজার কোটি টাকার আমানত ছাড়িয়ে যাওয়ার মাইলফলককে নিজেদের অৰ্জন বলে চালিয়ে দেয় এই পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংক কর্মকর্তারা যাতে ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিতে না পারে সেজন্য নানা তুচ্ছ বিষয় নিয়েও অডিট করা থেকে শুরু করে কথায় কথায় শোকজ করার কালচার সৃষ্টি করা হয় ব্যাংকটিতে। আর এই কাজে পরিচালনা পর্ষদকে সহযোগিতার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বাজারের সবচেয়ে অথর্ব এমডি হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে দুর্ণীতির দায়ে চাকরিচ্যুত মোঃ তৌহিদুল আলম খানকে।
নতুন ব্যবসা করতে না পারা, খেলাপী ঋণ ও ঋণ পুনঃতফসীলিকরন আইনের কঠোরতা এবং কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার মাধ্যমে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এসে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া ও এমডি তৌহিদুল আলম গংদের অসহযোগীতা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্ৰমের কারণে খেলাপী ঋনের হার গিয়ে দাড়ায় ২৭%। সে সময়ে যেসব ব্যাংকের পর্ষদ ভাঙ্গা হয়েছিল কোনটারই খেলাপী ঋণের হার ৫০% এর নিচে ছিল না। প্রধানিয়া ও আলমদের উদ্দেশ্য ছিল খেলাপী ঋণের হার যতটা সম্ভব বাড়িয়ে দেখানোটাই হবে তাদের পরবৰ্তী স্বার্থ হাসিলের মূল চাবিকাঠি।
কিন্তু সেই উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় আরেক কুট কৌশলের আশ্রয় নেয় তারা। মতলব আটতে থাকে কিভাবে ব্যাংকের হেড অফিস থেকে দক্ষ লোকজন অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি কাৰ্যকর অফিসারদের চাকরিচ্যুত করা যায়। এমনই প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২১ আগস্ট, ২০২৫ ব্যাংকের ১২ তম বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ নিৰ্ধারিত হলে প্রধানিয়া ও আলম চক্ৰ আরেক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।তোরজোড় শুরু করে কিভাবে শেয়ারধারীদের বাইরে রেখে সভায় ব্যাংকের আৰ্থিক বিবরণী পাশ করা যায়। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্বৈরশাসকের কায়দায় ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে এজিএমের এজেন্ডা থেকে পরিচালক নির্বাচনের এজেন্ডাটি (to elect/re-elect directors) সুকৌশলে বাদ দেয়া হয়। এছাড়াও স্বতন্ত্র পরিচালক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যথাযথ বিধিমালা মানেনি এই বোর্ড। যোগ্যতাসম্পন্ন প্রকৃত স্পন্সর শেয়ারধারীদের বাইরে রেখে নিজেদের পদ স্থায়ী করতে স্বতন্ত্ৰ পরিচালক নিয়োগর ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নোটিফিকেশন দিয়ে এজিএমে স্বতন্ত্র পরিচালকদের নাম এজিএমে এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে পাশ করার মাধমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নেয়ার কথা থাকলেও সেই এজেন্ডাটিও বাই-পাস করা হয়েছে । এতটুকু সৎসাহস তারা না দেখিয়ে এজিএমে ২০২৪ সালের ফিনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট পাশ করতে শেয়ারধারীরা যাতে স্বশরীরে অংশ নিতে না পারে সেজন্য ক্যান্টনমেন্ট এর ভেতরে এজিএমের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ডজনখানেক বাউন্সার (নাইটক্লাবে বিশঙ্খৃলা সৃষ্টিকারীদের বের করে দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়) এবং ৫০ জনের মতো পাহারাদার রাখা হয় যাতে কোন শেয়ারহোলল্ডার স্বশরীরে এজিএমে অংশ নিতে না পারে।
এখানে ই ক্ষান্ত হয়নি তারা। প্রকৃত শেয়ারধারীদের এজিএমে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হয়নি । নামকাওয়াস্তে অখ্যাত পত্রিকায় এজিএমের নোটিশের বিজ্ঞাপন দিয়ে দায়সারাভাবে আইনের পরিপালন করা হয়। অথচ সাধারণ সংস্কৃতি হচ্ছে এজিএমের এজেন্ডা ও তারিখ ই মেইলের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের জানানো। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি সেটা করা হয়নি। উপরন্তু ভুয়া বিল ভাঊচার দেখিয়ে ব্যাংকের টাকায় লোকজন ভাড়া করে এনআরবিসি ব্যাংকের ১২ তম এজিএম সম্পন্ন করা হয়।
ভুঁইফোড় চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া ও এমডি তৌহিদুল আলম খান নিজেদের পদ আঁকড়ে রাখার হীন স্বার্থ চরিতাৰ্থ করতে এমন কোন অনিয়ম নেই যা তারা করছেন না। এমডি তৌহিদুল আলম খান ব্যাংকের সৰ্বময় ক্ষমতার অধিকারি হতে চেয়ারম্যান প্রধানিয়ার যোগসাজসে ব্যাংকের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের অগোচরে ব্যাংকের অরগানোগ্রামেও পরিবৰ্তন আনেন। এমনকি এই বিষয়টি বোর্ডের অনেক সদস্যই জানতেন না। ব্যাংকের সবকিছু কুক্ষিগত করে অসীম ক্ষমতার অধিকার হতে চান এমডি তৌহিদুল আলম।
আর এজন্য ব্যাংকের সবগুলো গুরুত্বুপূর্ন পদে এমডি ও চেয়ারম্যান তাদের নিজেদের লোক ঢোকাতে আগের সব ডিভিশনাল প্রধানদের অন্যত্ৰ সরিয়ে দেয়া হয়েছে অথবা সাসপেন্ড করা হয়েছ। এরই মধ্যে ডিএমডি, সিএফও, সিএইচআরও, সিএলও এবং হেড অব ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটসহ বেশ কিছুকর্মী নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকের হেড অফিস-চোরে চোরে মাসতুত ভাইদের দখলে নিয়ে গেছে ।
ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে দুর্ণীতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত এমডি তোহিদলু আলম খান সিএফও হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারানো রশেদুল ইসলামকে । এছাড়া তৌহিদুল আলম খান এর সকল অপকৰ্মের স্বাক্ষী স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে একসঙ্গে চাকরি হারানো এস কে তারেক নেওয়াজের একবছর কোথাও চাকরি না থাকলেও এনআরবিসি ব্যাংকে তাকে প্রমোশন দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে । আরেক দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যাংকার সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকে স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিক কাজে অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদকেও প্রমোশন দিয়ে সিএইচআরও হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এমডি তৌহিদুল আলম খান । কম যাননি চেয়ারম্যানও, নিজের বান্ধবী ফাহমিদা চৌধুরীকে প্রমোশন দিয়ে সাড়ে ৫ লাখ টাকা বেতনে ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটের প্ৰধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
প্রধানিয়া ও আলম গং এর এসব নিয়োগের আড়ালে স্বজনপ্রীতির পাশাাশি নিয়োগ বানিজ্যেরও অভিযোগ করেছেন অনেক ব্যাংক কর্মকর্মর্তা। তাদের মতে, বিভিন্ন নিয়োগ থেকে তারা কমিশনও নিচ্ছেন। ব্যাংকে এখন প্রায় ৪০ টি গুরুত্বুপূৰ্ণ পদে নিয়োগের জন্য সার্কুলার দেয়া হয়েছে । যেখান থেকে মোটা অংকের ঘুষ নেয়ার ফন্দি আঁটছেন এই প্রধানিয়া ও আলম চক্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠার নামে পরিচালনা পর্ষদে যাদের বসানো হয়েছিল তারাই এখন নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আবুল বশর এনআরবিসি ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বোর্ডের চেয়ারম্যান ও এমডি'র অনৈতিক কাজের সুযোগ নেয়া শুরু করেন। এনআরবিসি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান এর পদ বাগিয়ে নেন আবুল বশর। সিকিউরিটিজ থেকে প্রতি মাসে গাড়ীর অ্যালউয়েন্স হিসেবে নিচ্ছেন এক লাখ টাকা। এছাড়াও চট্টগ্রামের বাসিন্দা আবুল বশর ঢাকায় আসলেই পরিবার নিয়ে ব্যাংকের টাকায় থাকছেন পাঁচ তারকা হোটেলে। এছাড়াও স্বতন্ত্র পরিচালকরা নানা অজুহাতে ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ভাতার নামে অর্থ নিচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে বোর্ড মিটিং করে আগের ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নিয়েছেন। বিষয়টাতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লে ভাতা কমিয়ে আবার আগেরটাই নির্ধারণ করা হয়।
এমতাবস্থায় অতি সত্ত্বর ব্যাংকটি বাঁচানোর জন্য ভালো উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বোর্ড পুনর্গঠন করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ব্যাংক কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংক দখলের যে হীনস্বার্থ নিয়ে তারা মাঠে নেমেছেন তা বাস্তবায়ন করতে খুব একটা সময় লাগবে না। কেননা, এরইমধ্যে ব্যাংকে কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। ব্যাংকের ব্যবসা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। গত দুই মাসে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মতো ডিপোজিট হারিয়েছে ব্যাংকটি। ক্রমেই গ্রাহক আস্থা হারাচ্ছে চতুর্থ প্রজন্মের এই শক্তিশালী ব্যাংক। গত বছর বর্তমান বোর্ডের নেতৃত্বে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৪৫৭ কোটি টাকা, যা এর আগের বছরে ছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারহোল্ডারবিহীন স্বতন্ত্র পরিচালকরা সুশানতো দুরের কথা ব্যাংকটিতে ব্যবসাবান্ধব কোন উদ্যোগ না নেয়ায় চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বছর শেষে এক হাজার কোটি টাকা মনুাফা অর্জন করতে সক্ষম ব্যাংকটি অচিরেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লীষ্টরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স