ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভয়ংকর সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে ইরান, ভিডিও ভাইরাল

আপলোড সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ০৯:২৩:০১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ০৯:২৩:০১ অপরাহ্ন
ভয়ংকর সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে ইরান, ভিডিও ভাইরাল ভয়ংকর সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে ইরান, ভিডিও ভাইরাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
তেহরানে দফায় দফায় ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে আবারও দখলদারদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।

আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। খবর আল-জাজিরার

দখলদার ইসরায়েলে সাম্প্রতিক হামলার পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইরানের অন্যতম বিধ্বংসী অস্ত্র— ‘সিজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র। পবিত্র কোরআনের সূরা ফিল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নামকরণ করা হয়েছে। ওই সূরায় বর্ণিত আছে কাবা ধ্বংসে আসা আব্রাহার হস্তি-বাহিনীকে ‘আবাবিল’ পাখির ছোড়া পাথরের মাধ্যমে ধ্বংসের ঘটনা। সেই পাথরগুলোকেই বলা হয়েছে “সিজ্জিল”। এই কোরআনিক প্রতীকের নামেই ইরান তাদের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের নাম রেখেছে ‘সিজ্জিল’।

দ্রুতগামী ও ধোঁকাবাজ বৈশিষ্ট্যের এই মিসাইল প্রথম আলোচনায় আসে ইসরায়েলে ইরানের সাম্প্রতিক বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সময়। ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে তেহরান। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ছোড়া হয় বহুল আলোচিত সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র।

ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি উৎক্ষেপণের পর দুটি ধাপে গতি পরিবর্তন করে। এতে সলিড ফুয়েল (দ্রবীভূত না হওয়া কঠিন জ্বালানি) ব্যবহার করায় খুব দ্রুতই উৎক্ষেপণ সম্ভব হয় এবং গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ফলে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুঝে ওঠার আগেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এটি।

প্রায় ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের সিজ্জিল মিসাইলটি ৭০০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এবং এর সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ আশপাশের বহু গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সামরিক ঘাঁটিতে সহজেই আঘাত হানা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র রাডার ও শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারদর্শী, যার ফলে এটি একটি স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্র হিসেবে ইরানের হাতে শক্তিশালী প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে।

এ দিকে আল-হাদাথ টেলিভিশনের বরাতে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে জনবহুল শহর তেল আবিব এবং দেশটির দক্ষিণ অঞ্চল। আকাশজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর ঝলকানি এবং সাইরেনের শব্দে পুরো ইসরায়েল জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট করা সম্ভব হয়েছে বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার থেকে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিল। এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের ওপর হামলা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ