কুরআনের পাঠশালা থেকে সর্বোচ্চ নেতা, রণক্ষেত্রে সমাপ্তি খামেনি অধ্যায়
আপলোড সময় :
০১-০৩-২০২৬ ১২:০৮:২৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-০৩-২০২৬ ১২:০৮:২৫ অপরাহ্ন
কুরআনের পাঠশালা থেকে সর্বোচ্চ নেতা, রণক্ষেত্রে সমাপ্তি খামেনি অধ্যায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। রোববার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। তিনি ওই সময় অফিসে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘শনিবার সকালে আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের যৌথ হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যিদ আলি খামেনি শাহাদাতবরণ করেছেন।’
আলি খামেনেয়ির মৃত্যুর মাধ্যমে ইরানে এক দীর্ঘ নেতৃত্বের অবসান হলো। ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শিক নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনি ১৯৮৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার পরই ইরানের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন আলি খামেনি।
১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শিয়া নগরী মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি ছিলেন এক খ্যাতিমান মুসলিম আলেমের সন্তান ও প্রতিবেশী ইরাকে বসবাসকারী আজারবাইজানি বংশোদ্ভূত। তাদের পরিবার প্রথমে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজে বসতি স্থাপন করে, পরে চলে আসে র্মীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত মাশহাদে। সেখানে খামেনির বাবা একটি আজারবাইজানি মসজিদের ইমামতি করতেন।
খামেনি তা*র মা খাদিজেহ মিরদামাদিকে পবিত্র কুরআন ও বইপ্রেমী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের কাছ থেকেই তিনি সাহিত্য ও কবিতার প্রতি ভালোবাসা অনুভব করেন। পরবর্তীতে পাহলভি রাজবংশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হলে মা-ই তাকে সমর্থন দেন।
চার বছর বয়সে কুরআন শিক্ষা দিয়ে খামেনির পড়াশোনা শুরু। মাশহাদের প্রথম ইসলামিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষ না করে তিনি ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন এবং সময়ের খ্যাতিমান আলেমদের কাছে পড়াশোনা করেন। যাদের মধ্যে ছিলেন তার বাবা ও শেখ হাশেম গাজভিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চতর শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার জন্য নাজাফ ও কোমে অধ্যয়ন করেন।
কোমে তিনি বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমের সান্নিধ্যে আসেন, যার মধ্যে ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনি। শাহবিরোধী অবস্থানের কারণে তরুণ ধর্মশিক্ষার্থীদের মধ্যে খোমেইনির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। খোমেইনি ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও তাফসিরের ক্লাস নিতেন, যার মাধ্যমে তিনি বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। এ সময় অনেক তরুণ রাজতন্ত্রে হতাশ হয়ে বিকল্প কিছুর জন্য ঝুঁকছিলেন।
১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সমর্থিত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর পর রাজতন্ত্র পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পায়। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে খামেনিকে একাধিকবার শাহের গোপন পুলিশ সাভাক গ্রেপ্তার করে। তাকে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের প্রত্যন্ত শহর ইরানশাহরে নির্বাসনেও পাঠানো হয়। তবে ১৯৭৮ সালের গণআন্দোলনে অংশ নিতে তিনি ফিরে আসেন, যা শেষ পর্যন্ত পাহলভি শাসনের পতন ঘটায়।
রাজতন্ত্র পতনের পর নতুন ইরান রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি। ১৯৮০ সালে তিনি অল্প সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরুর পর আইআরজিসির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তেহরানের জুমার নামাজের খতিব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৮১ সাল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। বিরোধী সংগঠন মোজাহেদিন-ই খালক(এমইকে)-এর এক হত্যাচেষ্টা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও তিনি তার ডান হাতের কার্যক্ষমতা হারান। একই বছরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পর সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত একটি পরিষদ খামেনেয়িকেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা করার সময়ই তার মনে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের প্রতি গভীর অবিশ্বাস তৈরি করে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স