উদ্ধার হবে ৩০ হাজার খাল, খনন হবে ২০ হাজার কিমি

আপলোড সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ০৯:৩২:৫৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ০৯:৩২:৫৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। এতে দেশের কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার বাবার দেখানো সে পথেই হাঁটছেন। দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে প্রায় ৩০ হাজার খাল।

এগুলোকে চিহ্নিত, শ্রেণিবিন্যাস ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কারিগরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির নাম ‘বাংলাদেশের খালসমূহ চিহ্নিতকরণ ও শ্রেণিবিন্যাসকরণ এবং জিও ইনফরমেটিক ডেটা বেইস তৈরি’।

জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ও পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ২০২৯ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

এদিকে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শিগগিরই হবে। একই সঙ্গে খালের দুই পারে বনায়ন কর্মসূচিও নেওয়া হবে। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের চাপে ফসলি জমি ও সবুজায়ন কমে যাওয়ায় পরিবেশ ও জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায় খাল খনন ও বনায়নকে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার (আইডব্লিউআরএম) ধারণাকে সামনে রেখে সারা দেশের খালগুলোর উৎপত্তিস্থল, আউটফল, প্রবাহপথ, বেসিন ও সাব-বেসিন চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত জিও-ইনফরমেশন সিস্টেমভিত্তিক খাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা। বর্তমানে দেশে নদ-নদীর একটি হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার থাকলেও খাল নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ, মানসম্মত ও একীভূত ডেটা বেইস নেই। ফলে খাল খনন, পুনঃখনন ও রক্ষণাবেক্ষণে একাধিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ও দ্বৈধতা দেখা যায়।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পলি জমে গড়ে ওঠা বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ অঞ্চলজুড়ে অসংখ্য খাল সৃষ্টি হয়েছে।

দেশে আনুমানিক ৩০ হাজারের বেশি খাল রয়েছে। কিন্তু এসব খালের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা, শ্রেণিবিন্যাস ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কোনো একক নীতিমালা নেই। কোথাও নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে অন্য নদীতে মিলেছে, কোথাও বিল বা বাঁওড় সংযুক্ত করেছে, কোথাও আবার পাহাড়ি ছড়া হিসেবে পরিচিত—এমন বৈচিত্র্যময় খালব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও একাডেমিক বা প্রশাসনিকভাবে তা মানসম্মত কাঠামোয় নেই।

প্রকল্পের আওতায় খালের ধরন, কার্যকারিতা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। বন্যা ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার সক্ষমতা বিবেচনায় খালগুলোকে বড়, মাঝারি ও ছোট—এভাবে ভাগ করা হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কালভার্ট, ব্রিজ, রেগুলেটরসহ অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ করে জিও ডেটা বেইসে যুক্ত করা হবে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনে সংরক্ষিত সিএস ও আরএস মানচিত্রসহ ঐতিহাসিক রেকর্ড ব্যবহার করা হবে; পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও অংশীজনদের মতামতও নেওয়া হবে।

এদিকে এরই মধ্যে খালসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে প্রশাসনিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাদের আওতাধীন খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে এর মধ্যে খননকৃত খালের অবস্থান, দৈর্ঘ্য, প্রকৃতি ও বিদ্যমান ডেটা বেইস থাকলে তা দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত খাল ডেটা বেইস প্রণয়ন ত্বরান্বিত করা যায়।

এর আগে ‘বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর তথ্যাদি হালনাগাদকরণ ও তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রবহমান নদীগুলোর তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে এবং একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। নতুন খাল প্রকল্পের ডেটা বেইস সেই বিদ্যমান নদী ডেটা বেইসের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, যাতে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।

তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন খাদ্য উৎপাদনের সুফল বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছে। পরবর্তী সময় খালগুলো মরে যাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খননের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার পানি সরাসরি কৃষকের জমিতে পৌঁছে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বক্তব্য উদ্ধৃত করে তথ্যমন্ত্রী জানান, তারেক রহমানের যেসব পরিকল্পনা ছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পরপরই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত দিয়েছেন। খাল খনন, বনায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খাল চিহ্নিতকরণ ও শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও তথ্যনির্ভর ডেটা বেইস তৈরি হলে ভবিষ্যতে পানিসম্পদ পরিকল্পনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সম্প্রসারণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে। পাশাপাশি সংস্থাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন স্পষ্ট হলে খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণে সমন্বয় বাড়বে এবং অপচয় কমবে। ৩১ কোটি টাকার এই কারিগরি প্রকল্প শুধু তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নয়। এটা দেশের সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত শৃঙ্খলা আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সদস্য (সচিব) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশে বহু খাল শুকিয়ে গেছে, ভরাট হয়ে গেছে বা দখলে চলে গেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জীবিত ও মৃত—উভয় ধরনের খাল শনাক্ত করে তালিকাভুক্ত করা হবে। বর্তমানে বাপাউবো, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে একই খালে একাধিক সংস্থার কাজ করার নজিরও রয়েছে। নতুন প্রকল্পে সংস্থাভিত্তিক দায়িত্ব নির্ধারণ করে এই দ্বৈধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ গোলাম মাওলা শাওন


অফিস :

অফিস :  দৈনিক অন্বেষণ ৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্সে ১০ম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০।

ইমেইল : dailyanneshonnews@gmail.com

মোবাইল : 01711006153