গণতন্ত্র থেকে স্বৈরতন্ত্রের পথে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব
আপলোড সময় :
১৭-০৩-২০২৬ ১২:১৮:২৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৭-০৩-২০২৬ ১২:১৮:২৫ অপরাহ্ন
গণতন্ত্র থেকে স্বৈরতন্ত্রের পথে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ভ্যারাইটিজ অব ডেমোক্রেসি (ভি-ডেম) ইনস্টিটিউট নামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো গণতান্ত্রিক দেশ নেই—বরং দ্রুত স্বৈরাচারের দিকে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা স্টাফান লিন্ডবার্গ বলেন, ‘আমরা ১৭৮৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য দেখছি। এখন যা হচ্ছে, এটা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অবনতি।’
তাদের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন অটোক্রাটাইজেশন বা ধীরে ধীরে স্বৈরাচারের দিকে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আগে যে দেশটিকে শক্তিশালী গণতন্ত্র বলা হতো, এখন আর তা বলা যাচ্ছে না।
লিন্ডবার্গ বলেন, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, তুরস্ক বা ভারতের নেতারা যে কাজ করতে কয়েক বছর সময় নিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তা এক বছরের মধ্যেই করে ফেলেছেন—অর্থাৎ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করে দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র এখন ১৯৬৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। সেই সময় নাগরিক অধিকার আইন চালু হয়েছিল। তারপর যত উন্নতি হয়েছিল, তা প্রায় মুছে গেছে।
বিশ্বজুড়েও গণতন্ত্র কমে যাচ্ছে। এখন প্রায় ৪১% মানুষ এমন দেশে বাস করছে যেখানে গণতন্ত্র দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে।
এই গবেষণায় ৪৮টি বিষয় দেখা হয়—যেমন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বাচন কতটা সঠিকভাবে হচ্ছে, আইন কতটা মানা হচ্ছে ইত্যাদি। এতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
লিন্ডবার্গ বলেন, কংগ্রেস (আইনসভা) এখন আর আগের মতো প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম বছরে ২২৫টি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, কিন্তু কংগ্রেস মাত্র ৪৯টি নতুন আইন পাস করে। এতে বোঝা যায়, আইনসভা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এমনকি আদালত কোনো আদেশ বাতিল করলেও, তা পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো—সরকারের ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল করা। অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বরখাস্ত করে তাদের জায়গায় বিশ্বস্ত লোক বসানো হয়েছে—যা অন্য স্বৈরাচারী দেশেও দেখা গেছে।
লিন্ডবার্গের মতে, ‘এটা স্পষ্ট যে ট্রাম্প একনায়কতন্ত্রের দিকে যেতে চাইছেন।’
এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে তৈরি হয় এবং এখন বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গণতন্ত্র বিশ্লেষণকারী সংস্থা। তারা ১৮০টি দেশের ৪,২০০ গবেষকের তথ্য ব্যবহার করে।
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ইউরোপের অনেক দেশেও গণতন্ত্র দুর্বল হচ্ছে—যেমন হাঙ্গেরি, ইতালি, রোমানিয়া ইত্যাদি। যুক্তরাজ্যকেও নতুন করে “গণতন্ত্র থেকে সরে যাওয়া দেশ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভালো দিক এখনো আছে—সেখানে এখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।
কিন্তু নির্বাচন ব্যবস্থাও ঝুঁকিতে আছে। অনেক নির্বাচন কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন, আর ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল ট্রাম্প মেনে নেননি—ভবিষ্যতেও সমস্যা হতে পারে।
তবে কিছু আশা আছে—অনেক মানুষ ট্রাম্পের নীতিতে অসন্তুষ্ট, তার জনপ্রিয়তাও কমছে। কিছু অঙ্গরাজ্য তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।
সবশেষে গবেষণাটি সতর্ক করে বলছে—গণতন্ত্র দুর্বল হওয়ার এই প্রবণতা শুধু আমেরিকায় নয়, সারা বিশ্বেই বাড়ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স