ঝিনাইদহে নিহত কৃষকদল নেতার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল
আপলোড সময় :
১৪-০৩-২০২৬ ০৩:৪০:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৩-২০২৬ ০৩:৪০:১১ অপরাহ্ন
ঝিনাইদহে নিহত কৃষকদল নেতার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মিয়ার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
শনিবার দুপুরে মিছিলটি শহরের হামদহ মর্গ হাউজের সামনে থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ। সে সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপপু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোনে আলম ও জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে এলাহী শিমুলসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ অভিযোগ করেন, ধর্মের নামে একটি রাজনৈতিক দল মানুষকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করছে। কৃষকদল নেতা তরু মিয়ার শরীর আঘাতের চিহ্ন থাকলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে প্রচার করছে।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। অবিলম্বে জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবি জানান।
মিছিলের আগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াত শহরের আলহেরা পাড়ায় দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড.হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, বিনা কারণে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করে। সেখানে হামলা করতে গিয়ে কৃষকদল নেতা মুন্সি স্ট্রোক করেন।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। একটি রাজনৈতিক দল ফায়দা লুটতে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করছি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা একটি তালিম কর্মসূচির জন্য জড়ো হন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এতে বিএনপির ৬ জন ও জামায়াতের ৭ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত হন ওয়ার্ড কৃষক দল নেতা তরু মিয়াকে ঢাকায় ও জামায়াতের ওয়ার্ড আমীর দবিবুর রহমানকে ফরিদপুর উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে রাতে তরু মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এদিকে কৃষক দল নেতা নিহতের তরু মিয়া নিহতের ঘটনায়
পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে নিহত হওয়ার পরপর ওই এলাকায় জামায়াত নেতাকর্মী বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স