যুদ্ধ আর ১০ দিন স্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে
আপলোড সময় :
০৪-০৩-২০২৬ ০৪:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৩-২০২৬ ০৪:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন
যুদ্ধ আর ১০ দিন স্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আরও ১০ দিন স্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে পেন্টাগন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের চতুর্থ দিনে পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছেন। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত অব্যাহত থাকলে শুধু সমরাস্ত্রের সংকটই নয়, ফুরিয়ে যাওয়া গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে এবং বর্তমান মজুত দিয়ে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ পরিচালনা সম্ভব।
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে ব্যাপক সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত ইতোমধ্যে সংকুচিত হয়েছে।
গত বছরের ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহার করে। বর্তমান সংঘাতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা বেড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান মাসে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মাসে মাত্র ৬–৭টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে সক্ষম।
যুদ্ধের ব্যয়ও বাড়ছে দ্রুত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার সেন্টার ফর অ্যা ণীঊজ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্যমতে, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে।
পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ চললে মোট ব্যয় ২১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। গত এক বছরে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অভিযানে ওয়াশিংটন ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেডিএএম কিট ও নৌবাহিনী থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও কমছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের প্রভাব এতে পড়েছে।
পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তির সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সংঘাতের জন্য নকশা করা। কিন্তু ইরানের মতো দেশের দীর্ঘস্থায়ী, স্বল্পব্যয়ী রকেট ও ড্রোন হামলার মোকাবিলায় এই ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা কৌশল অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload
কমেন্ট বক্স